স্মার্টফোনে আমরা প্রতিদিন কত শত কাজ করি! কিন্তু দিনশেষে ফোন ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো ব্যাটারি লাইফ। অনেক দামি ফোন কেনার পরেও দেখা যায় একদিনও পুরো চার্জ থাকে না।
প্রতিনিয়ত গেম খেলা, সোশ্যাল মিডিয়া চালানো কিংবা ব্রাউজিং করার কারণে খুব দ্রুত ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু কিছু সাধারণ অভ্যাস পরিবর্তন করলে এবং সঠিক সেটিংস ব্যবহার করলে আপনি আপনার ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ প্রায় দ্বিগুণ করে নিতে পারেন। আজ আমরা ব্যাটারি আয়ু বাড়ানোর ১০টি প্রমাণিত উপায় নিয়ে আলোচনা করব।
১. স্ক্রিনের ব্রাইটনেস কমানো (Auto Brightness)
ফোনের ব্যাটারি সবচেয়ে বেশি খরচ করে মোবাইল ডিসপ্লে। স্ক্রিনের ব্রাইটনেস ১০০% দিয়ে রাখলে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হতে বাধ্য।
করণীয়: ফোনের ব্রাইটনেস লেভেল সবসময় ৫০% বা তার নিচে রাখুন। সবচেয়ে ভালো হয় "Auto-Brightness" অপশনটি অন রাখলে, যা চারপাশের আলোর ওপর ভিত্তি করে ডিসপ্লের ব্রাইটনেস নিজে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করে।
২. ডার্ক মোড (Dark Mode) ব্যবহার করুন
আপনার ফোনে যদি AMOLED বা OLED ডিসপ্লে থাকে, তবে ডার্ক মোড চালু করলে প্রচুর ব্যাটারি বাঁচানো সম্ভব।
কারণ: ডার্ক মোড চালু করলে ডিসপ্লের কালো অংশগুলোর পিক্সেল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ব্যাটারির ওপর কোনো চাপ পড়ে না। তাই ফোনের সব অ্যাপ ও সিস্টেমে ডার্ক থিম ব্যবহার করুন।
৩. জিপিএস বা লোকেশন (Location) বন্ধ রাখুন
অনেক অ্যাপ আমাদের অজান্তেই ব্যাকগ্রাউন্ডে জিও-লোকেশন অন রাখে, যা অনবরত স্যাটেলাইটের সাথে কানেক্ট হয়ে ফোনের ব্যাটারি শেষ করতে থাকে।
করণীয়: গুগল ম্যাপস বা রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ছাড়া অন্য সময় ফোনের Location বা GPS অপশনটি অফ রাখুন।
৪. স্ক্রিন টাইমআউট (Screen Timeout) কমিয়ে দিন
ফোন ব্যবহার করা বন্ধ করার পর কতক্ষণ স্ক্রিন জ্বলে থাকবে, তাকে স্ক্রিন টাইমআউট বলে। এটি যদি ১ বা ২ মিনিট দেওয়া থাকে, তবে ফোনের চার্জ অহেতুক নষ্ট হয়।
করণীয়: Settings > Display-এ গিয়ে স্ক্রিন টাইমআউট ১৫ সেকেন্ড বা ৩০ সেকেন্ড সিলেক্ট করে দিন।
৫. ব্লুটুথ, ওয়াইফাই ও হটস্পট প্রয়োজন ছাড়া অফ রাখুন
ওয়াইফাই, ব্লুটুথ ও মোবাইল হটস্পট অন থাকলে ফোন অনবরত নতুন সিগন্যাল খুঁজতে থাকে। এতে ব্যাটারির ড্রেইন রেশিও অনেক বেড়ে যায়। কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে নোটিফিকেশন বার থেকে এই বাটনগুলো অফ করে দিন।
৬. ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ বন্ধ করুন
আমরা একটি অ্যাপ থেকে বের হয়ে গেলেও সেটি ব্যাকগ্রাউন্ডে ইন্টারনেটের সাথে কানেক্ট থেকে নোটিফিকেশন আনে ও ডাটা রিফ্রেশ করে।
করণীয়: Settings > Battery বা Apps-এ গিয়ে যেসব অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড এক্টিভিটি দরকার নেই (যেমন: গেম বা শপিং অ্যাপ), সেগুলোর "Restrict Background Activity" অন করে দিন।
৭. ভাইব্রেশন ও হ্যাপটিক ফিডব্যাক (Haptics) বন্ধ করুন
কিবোর্ডে টাইপ করার সময় বা রিংটোন বাজার সময় ফোন কাঁপলে বা ভাইব্রেট হলে ফোনের ভেতর থাকা ছোট ভাইব্রেশন মোটর প্রচুর ব্যাটারি ব্যবহার করে।
করণীয়: সাউন্ড সেটিংসে গিয়ে Keyboard Haptic Feedback এবং Touch Vibration অপশন দুটি অফ করে দিন।
৮. ২০%-৮০% চার্জিং রুল মেনে চলুন
মোবাইলের ব্যাটারি দীর্ঘকাল ভালো রাখার একটি বৈজ্ঞানিক নিয়ম হলো ফোনকে কখনো ০% হতে না দেওয়া এবং ১০০% পর্যন্ত চার্জ না করা।
সঠিক নিয়ম: ফোনের চার্জ ২০% এ নামলেই চার্জে দিন এবং ৮০% থেকে ৮৫% হলে চার্জার খুলে ফেলুন। এতে ব্যাটারির লিথিয়াম-আয়ন সেল দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
৯. আসল চার্জার ব্যবহার করুন এবং ওভারচার্জ এড়িয়ে চলুন
সস্তা বা লোকাল চার্জার দিয়ে ফোন চার্জ দিলে ব্যাটারির স্থায়িত্ব কমে যায় এবং ফোন অতিরিক্ত গরম হয়। ফোনের সাথে আসা আসল চার্জার বা সার্টিফাইড ভালো মানের চার্জার ব্যবহার করুন। এছাড়া সারারাত ফোন চার্জে দিয়ে রাখা থেকে বিরত থাকুন।
১০. ব্যাটারি সেভার মোড (Battery Saver Mode) ব্যবহার করুন
ফোনের চার্জ যখন ৩০% বা তার নিচে নেমে যাবে, তখন ফোনের ইনবিল্ট "Battery Saver" বা "Power Saving Mode" চালু করে দিন। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাকগ্রাউন্ডের সব অপ্রয়োজনীয় প্রসেস বন্ধ করে ব্যাটারি দীর্ঘক্ষণ টিকিয়ে রাখবে।
শেষ কথা
ব্যাটারি ব্যাকআপ ভালো রাখা খুব জটিল কিছু নয়, সামান্য সচেতনতাই যথেষ্ট। ওপরের নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার ফোনের ব্যাটারি শুধু সারাদিন টিকবেই না, বরং ব্যাটারির সার্বিক আয়ুও অনেক বছর বৃদ্ধি পাবে।
প্রযুক্তি, অ্যান্ড্রয়েড এবং স্মার্টফোনের সব নতুন টিপস ও ট্রিকস পেতে নিয়মিত আমাদের Tech Guide BD ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।
0 comments:
Post a Comment